Logo
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ PM || প্রকাশের তারিখঃ ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৯ PM

এক ব্যক্তির হাতে দুই ডিলারশিপ: কলসকাঠীতে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়মের অভিযোগ

News Image

বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বৈধ গুদাম থাকা সত্ত্বেও একজন যোগ্য আবেদনকারীকে বঞ্চিত করে বসতঘরের ড্রয়িংরুমকে গুদাম দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে বিসিআইসি সার ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবার সেই ব্যক্তির নামে আগে থেকেই খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস ডিলারশিপ বহাল রয়েছে।
জানা গেছে, কলসকাঠী ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগের জন্য মাত্র দুটি আবেদন জমা পড়ে। একটি মেসার্স ইয়ামিন এন্টারপ্রাইজের, অপরটি নয়ন ট্রেডার্সের।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইয়ামিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোসা. শাহিনুর বেগমের অভিযোগ, তিনি বিসিআইসির সকল শর্ত পূরণ করে কলসকাঠী বাজারের প্রাণকেন্দ্রে ৭৫ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি পাকা গুদামের বৈধ ভাড়া চুক্তিপত্রসহ আবেদন করেন। যেখানে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের কৃষকদের যাতায়াত সবচেয়ে সহজ।
কিন্তু উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি তাকে ২ নম্বর ক্রমিকে রেখে নয়ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিমাই কীর্তনীয়াকে ১ নম্বর ক্রমিকে রেখে জেলা কমিটিতে সুপারিশ পাঠায়।
নিমাই কীর্তনীয়ার কোনো বৈধ গুদাম নেই। তিনি নিজের বসতবাড়ির ড্রয়িংরুমকে গুদাম হিসেবে দেখিয়ে ডিলারশিপ হাতিয়ে নিয়েছেন, যা বিসিআইসি ডিলার নিয়োগ নীতিমালা ২০২৩ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নিমাই কীর্তনীয়ার নামে ইতিমধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস ডিলারশিপ বহাল রয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, একই ব্যক্তি একই সময়ে দুটি ভর্তুকিযুক্ত সরকারি ডিলারশিপ পরিচালনা করতে পারেন না। দ্বৈত সুবিধা নিয়ে সার কালোবাজারির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এই নিয়োগের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়বেন কৃষকরা। নয়ন ট্রেডার্সের অবস্থান ইউনিয়নের একেবারে পূর্ব প্রান্তে হওয়ায় দক্ষিণ সাদিশ, বেবাজ, গুরিয়া, দিয়াতলী ও উত্তর ঢাপরকাঠী গ্রামের হাজারো কৃষককে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে সার সংগ্রহ করতে হবে।
ভুক্তভোগী শাহিনুর বেগম বলেন, "আমার সব কাগজ বৈধ থাকা সত্ত্বেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর আমি লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি, যার রিসিভ কপি আমার কাছে আছে।"
এ বিষয়ে জানতে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কৃষকরা কৃষকের স্বার্থে এই অনিয়মপূর্ণ নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় সরেজমিনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিসিআইসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।